
লাখ মুসল্লীর অংশগ্রহণে আল্লাহপাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, দেশ-জাতির সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব সমাপ্ত হয়েছে শনিবার।
বৃষ্টিস্নাত দিনে দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা শুরু হয়েছে আজ। এ ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা।
সে কারণেই দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে এসেছেন তাবলিগের নবীন-প্রবীণ মিলে ৩৩ মুরব্বির এক প্রতিনিধিদল।
সূত্রে জানা গেছে, রোববার ফজর নামাজের পর থেকেই ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। আগামীকাল সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্দালভির অনুসারীরা এই দু’দিন ইজতেমা পরিচালনা করবেন।
এর আগে, শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের মুরব্বি ও তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্য হাফেজ মাওলানা জোবায়ের।
শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে বিমানবন্দরসংলগ্ন হজ ক্যাম্পে এসে পৌঁছেছে প্রতিনিধিদলটি।
নিজামুদ্দিনের এসব মুরব্বিই দ্বিতীয় ধাপের এ ইজতেমায় বয়ান ও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন।
মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুপস্থিতিতে এ ইজতেমায় আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিজামুদ্দিন মারকাজের প্রবীণ মুরব্বি মাওলানা শামীম আহমদ।
সূত্রে জানা যায়, এই পর্বের ইজতেমায় মাওলানা সাদ না এলেও তার বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভীর আসার কথা রয়েছে।
মাওলানা শামীম আহমদ ছাড়াও এ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত আলেম ইউসুফ সালানির সন্তান মাওলানা ইয়াকুব।
এ ছাড়া আরও যারা থাকছেন- মাওলানা শওকত, মাওলানা ওমর মালিক, মুফতি শেহজাদ, মাওলানা হাশিম বিন শামীম, মাওলানা আসাদুল্লাহ, মাওলানা জুয়ারুল হাসান, মিয়াজি মাওলানা ফুল, মুফতি শরিফ, মাওলানা জামসিদ, মুরসালিন প্রমুখ।
এ ছাড়া ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের তাবলিগ দায়িত্বশীলদের মধ্য থেকে অনেকেই উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
মাওলানা নাফিস, মুফতি আবদুর রহিম, শায়খুল হাদিস আবদুর রশিদ, মাওলানা আবদুল হান্নান, মাওলানা শামসুর রহমান, মাওলানা গাজাইল, প্রফেসর আবদুল আলিম, শায়খ ইলিয়াস (বাড়াবাকিং), শায়খ আলাউদ্দিন (মেওয়াত) এদের মধ্যে অন্যতম।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঠে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১সাল থেকে টঙ্গীতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বছর যারা (যে ৩২ জেলার মুসল্লি) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতেন তারা পরবর্তী বছর সেখানে যেতেন না। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার পাশাপাশি জেলায় জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।