চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের উদ্যোগে মহাকবি আলাওলের জীবন কর্ম শীর্ষক এক সাহিত্য সন্ধা সংগঠনের সভাপতি বাবুল কান্তি দাশের সভাপতিত্বে গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় কদমমোবারক স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবালের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য ও পালি বিভাগের চেয়ারম্যান অধাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু। প্রধান আলোচক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক ফজল আহমদ চৌধুরী। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন নাট্যজন ও সাংবাদিক সজল চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি আশীষ সেন, শিক্ষাবিদ বিজয় শংকর চৌধুরী, ব্যাংকার নারায়ন কান্তি দাশ, গীতিকার মোঃ লিপটন, কবি সজল দাশ, শিল্পী অচিন্ত্য কুমার দাশ, রতন দাশ গুপ্ত, প্রকৌশলী সিঞ্চন ভৌমিক, রোজী চৌধুরী, সমীরণ পাল, এম,নুরুল হুদা চৌধুরী, সুমন চৌধুরী। সভায় লিখিত প্রবন্ধে সজল চৌধুরী বলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মধ্যমণি মহাকবি আলাওল। আধুনিক কালেও যাঁকে মহাকবি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তিনি ছিলেন একাধারে বহুভাষাবিদ পন্ডিত, অনুবাদক,এবং মহাকবি। যুদ্ধবিদ্যা এবং সঙ্গীত বিষয়েও তাঁর জ্ঞান ছিল। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। এই হাজার বছরকে পন্ডিতরা তিনভাগে ভাগ করছেন। প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগ। ১২০১-১৮০০ এই সময় মধ্যযুগ হিসেবে পরিচিত। এই সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি মহাকবি আলাওল। কৈশোর বয়সে মন্ত্রী পিতার সাথে কার্যোপলক্ষে কোথাও যাত্রাকালে পথিমধ্যে দুর্ধষ জলদস্যুর কবলে পড়ে পিতা শহীদ হলেও প্রাণে রক্ষা পান কবি। অনেক দুঃখ কষ্ঠে পথ অতিক্রম করে তিনি আরাকানে উপস্থিত হন। বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি মগরাজার সেনাবাহিনীতে অশ্বারোহীর চাকরী গ্রহণ করেন। এসময় আরাকান রাজসভায় একটি চমৎকার সাহিত্যিক পরিবেশ বিরাজ করছিল। গুণি ব্যক্তিদের যথেষ্ট সম্মান করা হতো। সে যে ধর্মেরই হোক না কেন। মূলতঃ এখান থেকে কবির কাব্য সাধনা শুরু। তিনি রচনা করেন মহাকাব্য পদ্মাবতী। যা বাংলা সাহিত্যে এখনও অনন্য সাহিত্যকর্ম। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কবিকে কারাভোগ করতে হয়। কবির প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাগন ঠাকুরের মৃত্যু কবিকে চরম দূর্দশায় নিপতিত করে। কবিকে ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করতে হয় নিজ অস্তিত্ব কে টিকিয়ে রাখার জন্য। মানব মনের স্বাভাবিক বিকাশ ও জাগতিক জীবনের বৈচিত্র পটভূমি’র অনন্য দলিল মহাকবি আলাওল এর কাব্য গ্রন্থ। সভাশেষে ৩০ ডিসেম্বর মহাজোট সরকারের মহাবিজয়ে চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ মহাজোটের সকল নির্বাচিত সাংসদকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়।