
আবু তৈয়ব আল হুসাইন
সাইফুর রহমান: মৌলবি মুজিবুর রহমান (৭০) চুনারুঘাট উপজেলার তাউসি গ্রমের সুপ্ত এক প্রতিভা। আমাদের ভাষায় তিনি গ্রাম্য কবি। তাঁর কবিতায় নিহিত আছে মাধুর্য্য, স্বাদ, বিপ্লব ও প্রতিবাদ। ছোটবেলায় আমরা তার কবিতা শুনেছি কোন সম্মেলনের মাইকে অথবা কবিকে স্বীয় মুখে আবৃতি করতে দেখেছি কোন ওয়াজ মাহফিলের স্টেজে। প্রকৃত বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলা কবিতার পংক্তি সমূহ আমাকে দিয়েছে আনন্দ, হৃদয় দিয়েছে ধুলা। সুন্দর সুন্দর পংক্তি গুলো মুখস্থ করতাম আর অনেক সময় মুখস্থ থাকা ছন্দগুলো মনের অজান্তে আবৃতি করে নিজেও স্বাদ গ্রহন করতাম। যদিও আমরা তার কবিতাকে গ্রাম্যভাষার কবিতা মনে করে তাচ্ছিল্য করেছি। কিন্তু এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের সত্তা ও সাহিত্য। প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন পল্লী কবি। তার কবিতায় ফুটে উঠেছে পল্লীর কথা এবং গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন দিক। তিনি স্বীয় (হবিগঞ্জের আঞ্চলিক) ভাষায় ছন্দে ছন্দে তুলে ধরেছেন আমাদের ধ্যান-ধারণা, কৃষ্টি-কালচার সংস্কৃতি বা তাহজিব তামাদ্দুন।
ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর পল্লী সাহিত্য নামক প্রবন্ধে লিখেছেন, “পল্লীর ঘাটে-মাঠে, আলো-বাতাসে,পল্লীর প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য জড়িয়ে আছে, কিন্তু বাতাসের মধ্যে বাস করে যেমন আমরা ভুলে যাই, বায়ু-সাগরে আমরা ডুবে আছি, তেমনি পাড়াগাঁয়ে থেকে আমাদের মনেই হয়না যে,কত বড় সাহিত্য ও সাহিত্যের উপকরণ ছড়িয়ে আছে সেখানে।”
ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আরো লিখেছেন, “যদি বাংলাদেশের প্রত্যেক পল্লী থেকে এই সব অজানা-অচেনা কবিদের গাঁথা সংগ্রহ করে প্রকাশ করা হত, তাহলে দেখা যেত বাংলার মুসলমানও সাহিত্য সম্পদে কত ধনী।”
তিনি বারবার তার হৃদয় নিংড়ানো কবিতা গুলো আমাদেরকে আবৃতি করে শুনিয়েছেন। এবং আমরাও তা শুনেছি কিন্তু হৃদয়াঙ্গম করতে পারিনি কেউ। অর্থের অভাবে কুগুজে বই রুপে প্রকাশ করতে না পারলেও আলাদা আলাদা পাতায় কম্পুজ করে আমাদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছেন, কিন্তু আমরা তা গ্রহণ করিনি। এমন অবহেলা ও অবলীলায় আমরা গ্রাম্যকবির এই পল্লী সাহিত্য এবং তার সম্ভাবনাময় প্রতিভাকে গলাটিপে হত্যা করছি। মৌলবি মুজিবুর রহমান গ্রামের একজন সহজ সরল মানুষ। তিনি জানেন না কিভাবে তার কবিতা সমূহ বড়দের দৃষ্টিগোচরে নিতে হয়।
আজ যদি তিনি নিজের কবিতা গুলো দেশের বড় বড় সাহিত্যিকদের দৃষ্টিগোচরে নিতে সক্ষম হতেন, তাহলে হয়তো তিনিও একজন খ্যাতিমান কবিতে রূপান্তরিত হতেন। এবং তার কবিতা সমূহ ব্যবহার হত বাংলা সাহিত্যের উপকরণ হিসেবে।