
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : “আমি নজরুলের অগ্নিবীণার অনল হয়ে জ্বলি রবীন্দ্রের সোনার বাংলায় নিমজ্জিত থাকি।আমি শহীদি জিয়ার ধানের শীষে লেগে থাকা হাসি,আমি মুজিবের নৌকায় করে বারবার ফিরে আসি,,”ধ্রুপদী আজ আমি সবচেয়ে সুখী; তোমার তরে আমার শেষকৃত্য হবে, তোমার পরশ পেয়ে চন্দন কাঠের শিখানলে আমার মুখাগ্নি হবে।,, “তুমি কি কখনো ধর্ষিতা নারীর অসহায় মুহূর্ত দেখেছো? আমি যে আজকে তারচেয়ে বেশি অসহায়। একই ঘরের তিন মৃত্যুর ক্রন্দনধ্বনি কি কখনো শুনেছো,তারচেয়ে বেশি ক্রন্দন যে আজ আমার বুকে।,, এসমস্ত কথা সহ অত্যন্ত রোমান্টিক কিছু কথা নিয়ে শেষকৃত্যের বায়না কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এমদাদুল হক।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২.২০ মিনিটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবন ভিসি কার্যালয়ে মোড়ক উন্মোচন করেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এবং জনাব অধ্যাপক মাইনুল হাসান চৌধুরী, সভাপতি ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। জনাব সভাপতি ও অধ্যাপক মহীবুল আজিজ, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপক ড.মনির উদ্দিন, চেয়ারম্যান রসায়ন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপক ড.নুসরাত জাহান কাজল,দর্শন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রমুখ ব্যক্তিত্বগণ মোড়ক উন্মোচন করেন।
মোড়ক উন্মোচনে আরো উপস্থিত থাকার কথা ছিলো, জনাব অধ্যাপক ড. এ বি এম আবু নোমান, ডিন আইন অনুষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এবং জনাব মাছুম আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।মোড়ক উন্মোচনের সময় বইটির নাম ও বিষয়বস্তু নিয়ে এবং বইটি যে প্রচণ্ড আবেগ, প্রেম বিচ্ছেদ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম নিয়ে লিখা এমনটি মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চোধুরী স্যারকে বলছিলেন ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাইনুল হাসান চৌধুরী। এসময় তিনি আরো উল্লেখ করেন বইটির ভিতরে দেওয়ার উনার শুভেচ্ছা বাণীটি সম্পর্কে।এসময় মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন বলেন- কবিতা হয়ে উঠে প্রচণ্ড আবেগ দিয়ে। আবেগ ছাড়া কবিতা নির্মাণ হয় না। কবিতা মানেই হচ্ছে প্রেম – বিচ্ছেদ। তাছাড়া আমাদের সাহিত্যে রচনার সবচেয়ে বড় একটা অংশই হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এমন সময় “শেষকৃত্যের বায়না ” কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে তিনি নিজের মতো করে দেখেন এবং উপস্থিত সবাইকে নিয়ে ফটো সেশন হয়; আর বইটির লেখক এমদাদুল হক এর ইচ্ছাশক্তিটাকে, লিখালিখির অভ্যাসটাকে স্বাগত জানান। এবং লেখকের হাতে হাত রেখে করমর্দন করে বইটির লেখক এমদাদুল হক’কে আশীর্বাদ করেন। এমন সময় মাননীয় উপাচার্য ও চবি ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাইনুল হাসান চৌধুরী স্যারকে কদমবুসি করে আশীর্বাদ নেন বইটির লেখক এমদাদুল হক।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ বাইজিত ইমন,ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের ছাত্রছাত্রী সহ অন্যান্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।
এসময় শেষকৃত্যের বায়নার লেখক এমদাদুল হক সহ বেশ কয়েকজন বন্ধুবান্ধব তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন এক ফেসবুক লাইভে।
জানাযায় শেষকৃত্যের বায়না বইটিতে ভূমিকা লিখেছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও ব্যাকরণবিদ জনাব অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এবং রিভিউ স্বরূপ শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন- অধ্যাপক মাইনুল হাসান চৌধুরী,চেয়ারম্যান,ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সভাপতি ও অধ্যাপক মহীবুল আজিজ, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এবং জনাব ড.মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শেষকৃত্যের বায়না’র লেখক বলেন- বইটি তার খালাতো ভাই মীর মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, (যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী, সাবেক ছাত্র নেতা) অর্থপ্রদান করেছেন।এবং বিশেষ সহযোগিতা করেছেন মাহবুবুর রহমান রুমন, সহকারী কমিশনার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট।
শেষকৃত্যেরর বায়নার কাব্যগ্রন্থের লেখক এমদাদুল হক বলেন-অমর একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে বলাকা প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করেন। বাংলা একাডেমী, ঢাকা প্রকাশনীটির স্টল নং- ৪৯৩ এবং চট্টগ্রাম বইমেলায় স্টল নং ৫-৬, বইটি ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে । তিনি আরো বলেন এটিই তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ, এটি অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় প্রেম বিচ্ছেদ, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, চরম পর্যায়ের রোমান্টিক কথা দিয়ে তিনটি পত্রকবিতা সহ ৩৮ টি কবিতা দিয়ে কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন। তিনি বলেন প্রত্যেক ব্যক্তিরই বইটির লিখা গুলো ভালো লাগবে এমনটাই তিনি আশা করেন।কেননা প্রতিটি মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া বিষয় গুলোকে কেন্দ্র করে এই বইটি লিখা তাই বইটি প্রিয়তা পাওয়ার আশঙ্কা আছে বলেও জানা তিনি। জানতে চাইলে বলেন – তিনি প্রতি বছর একুশে বই মেলায় বই প্রকাশ করার জন্য চেষ্টা করবেন। এরি সাথে সবাইকে বইটি স্টলে এসে কিনার জন্য আহবানও করেন। পরিশেষে বলেন- এই পর্যন্ত তার নিজ ডিপার্টমেন্টের বন্ধুবান্ধব সহ তার পরিচিত প্রতিটি মানুষ সার্বিক সহযোগিতা করেছেন,তাই তিনি চিরকৃতজ্ঞ।
প্রসঙ্গ, বহুল পরিচিত শেষকৃত্যের বায়না কাব্যগ্রন্থটির লেখক এমদাদুল হক এর জন্মস্থান নেত্রকোনা জেলার, পূর্বধলা উপজেলার, ধলামূলগাঁও গ্রামে। কিন্তু পৈত্তিক নিবাস নেত্রকোনা জেলাশহর মালনী। পিতা হাদিস খান ও মাতা জায়েদা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। লেখাপড়া জীবন শুরু হয় ২৪ নং ধলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে; ২০১১ সালে ধলামূলগাঁও উচ্চা বিদ্যালয় থেকে SSC ও ২০১৩ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে HSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৪-১৫ সেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে বর্তমানে তিনি ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত। মধ্যবিত্ত পরিবারের এই লেখকের পড়ালেখা খরচ সহ যাবতীয় চাহিদা তার দেবতাতুল্য সর্বজ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বজলুর রশিদ মিটিয়ে থাকেন বলে জানাযায়।