শেষ সময়ের কিছু কথা

0

আতিকুল ইসলাম: আমি নিজের মাঝে দু জন আমিকে দেখতে পাই। তারা দুজন পৃথক পৃথক পথ দিয়ে হাঁটতে থাকে। তাদের গতি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। একদম বাইরে। খুব বাইরে। আমি বিরক্ত হই। ভীষণ বিরক্ত। এতো বিরক্ত যে, ছাদ থেকে লাফিয়ে পরতে ইচ্ছে হয়। আরো ইচ্ছে হয় কল্পনা করে নিজেকে পালতে দিতে। আমি মিনহাজ। আমি খুব অস্থির। আমি কখনও স্থির থাকতে পারি না। বসে থাকতে পারি না। আমি এক মনে বসে চা পান করতে পারি না। এক কাপ চা শেষ করতেও আমাকে পাঁচবার উঠতে হয়। উঠে দাঁড়াতে হয় ও বসতে হয়। আমি কখনও রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারি না। ছটফট করি। আমি নিঃসঙ্গ বোধ করি। আমার কোন যোগ্য বন্ধু নাই। যারা আমাকে বাঁচতে সাহায্য করবে। যারা আমার সাথে দু বেলা কথা বলার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকবে। যারা ভাত খাওয়া বাদ দিয়ে উঠে আসবে। যারা সহবাস করা ফেলে রেখে চলে আসবে। যারা আমাকে ভালবাসবে।

আমি নিজের মাঝে দু জন আমিকে দেখতে পাই। একজন সবসময় ভালো চিন্তা করতে থাকে। কিন্তু সে শুধু ভালো চিন্তা করে, ভালো থাকার কল্পনা করে, ভালবাসার কথা ভাবে। আর একজন খারাপ কথা চিন্তা করে এবং খারাপ কল্পনা বাস্তবে রূপ দান করে। তাই আমি খারাপ ও হতাশ। এই হতাশা ভালো জনের মাধ্যমে সৃষ্ট।

আমি ঘুম থেকে উঠি এবং আমার গা জ্বলে উঠে। অসয্য বোধ হয় সূর্যের হলুদাভ ও সোনালী আলোকে। আমি ঘৃণা করি এই পৃথিবীকে। তারপর বা কিছু পর আমি এক কাপ চা পান করি। সাথে থাকে বেনসন সুইচ সিগারেট। মাঝে মাঝে রেড হুইস্কির ব্যাবস্থা করি। আমি একটির পর একটি সিগারেট জ্বালাই ও সুখ পাই। তারপর আমি কাগজ খুলে বসি। কাগজে আমি উলঙ্গ নারীদের নৃত্য দেখতে পাই। আমি আনন্দ বোধ করি। আমি কালো কলম দিয়ে কাগজ কুমারীদের সাথে সহবাস করি। তারা আমাকে খুশী করে রাশি রাশি উপন্যাসের জন্ম দেয়। আমি কিছুক্ষণ উপন্যাসে ঠোঁট চুবিয়ে চুমু খাই। তারপর একটির পর একটি লিখে শেষ করি। সেগুলো চকচকে বই হিসেবে বেড় হয়। আমি ক্ষণিকের শান্তি পাই। কিন্তু আমি খারাপ। আমার শান্তি সীমিত। হিটলার কেমন ছিলেন? তার শান্তি কতটুকু ছিল। তিনি কি বিষ পান করেছিলেন। হেমিংওয়ে কিভাবে মরেছিলেন? শান্তি নিয়ে? তারা আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাই তাদের কথা ভাবি। আমি কল্পনায় আমাকে পাল্টে দেই। কিন্তু কল্পনা যে কল্পনা। তারা আমাকে বাস্তবে পাল্টে দিতে পারে না।

আমি এক সময় ভালো ছিলাম। তখন আমার মাঝে থাকা ভালো মানুষটি শান্তিতে খেলা করত। সে খুব শান্তি দিত। তারপর বয়স বাড়ল এর কালো মানুষ এসে শান্তি নষ্ট করল। আমি আমার মাঝে দুজন আমিকে দেখা শুরু করলাম। তারা একই সাথে দুটো ভাবনা ভাবে। কিন্তু খারাপটা বাস্তবে হয়। তাই আমি খারাপ ও হতাশ। আমি এখন স্রষ্টা নিয়ে ভাবার স্পর্ধা দেখাই। মাঝে মাঝে তাঁকে শূন্যে ভাসিয়ে দেই। কিছুদিন তিনি শূন্যে চলে যান। আমি বেশি দিন থাকতে পারি না। ভালো মানুষ হাহাকার করে উঠে। তারপর আবার স্রষ্টা নিয়ে ভাবার স্পর্ধা দেখাই এবং স্রষ্টাকে শূন্য হতে নিয়ে বাম বুকের নিচে স্থান দেই। তিনি সেখানে থাকেন কিছুদিন। তখন বড় শান্তি পাই।

আমি এখন মৃত্যু নিয়ে ভাবি বেশী। পৃথিবীটা কল্পনা দিয়ে পাল্টে দেই। পাল্টে দেই নিজেকে। সেখানে আমি একজন ভালো মানুষ। খুব ভালো। আমি সেখানে বালু দিয়ে বাড়ি বানাই। বাড়ির নিচ দিয়ে পানি যায়। কলকল শব্দে গভীর ঘুম ভাঙে। সেখানে আমি আমার মাঝে থাকা কালো মানুষ দেখতে পাই না। ভালো মানুষ তাই এক মনে খেলা করে। আমার আরাম লাগে। মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছি এখন। যাই!

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.