
শাহাদাত হোসেন
——-কবি, চিন্তাবিদ, তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ
সুপার হিউম্যান প্রকৌশল বনাম মানবিক বাস্তবতা
জেনসেনহুয়াং যখন এলন মাস্ককে “সুপারহিউম্যান”বলে অভিহিত করলেন, প্রযুক্তিজগত একমুহূর্তের নীরবতায় পড়ে গেল। NVIDIA প্রধান নির্বাহী মাস্কের xAI প্রকল্পের ‘Colossus’ সুপার কম্পিউটার মাত্র ১৯দিনে তৈরি হওয়ার প্রসঙ্গ তোলে, বললেন, “তিনি জানেন কীভাবে বড় সিস্টেম তৈরি করতে হয়, কীভাবে প্রকৌশলীদের একত্রিত করতে হয়, কীভাবে সম্পদ সংগ্রহ করতে হয়।”সাধারণত এত উচ্চ মাত্রার প্রকল্প বাস্তবায়নে মাসের পর মাস, এমনকি বছর কেটে যায়।
Colossus হলো একটি বিশাল AI প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ১০,০০০ H100 GPU—বর্তমানের অন্যতম শক্তিশালী চিপ।মাস্কের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং ঝাঁপিয়ে পড়া দৃষ্টি ভঙ্গি প্রকৌশলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।হুয়াংয়ের কথায়, “গতি ও সম্পদে তার সমন্বয় অতুলনীয়; মানবিক বিবেচনা কিন্তু অনেক পেছনে।”
কিন্তু এই “সুপারহিউম্যান”গতি কি সত্যিই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে? যেখানে Colossus তৈরি হতে নেবে ১৯দিন, সেখানে বাংলাদেশে–একটি জেলার হাসপাতালের জরুরি ওষুধ আসতে সপ্তাহখানিক সময় লাগে, দুর্যোগের ত্রাণ পৌঁছতে মাসের পর মাস। AI নিয়ে যত আলোচনা, তেমনি চলেনা রোজকার ভাত-তেলের দাম আর ন্যায্য মজুরি নিয়ে সংগ্রাম।রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং খাদ্য সংকট এখানে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৫সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৬৯০মিলিয়নের ও বেশি মানুষ এখনও চরম দারিদ্র্যের সীমারেখার নিচে জীবন যাপন করেন; অন্যদিকে বিশ্বের ধনী ১শতাংশ মানুষের দখলে রয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পদ।আর দেশের উচ্চ শিক্ষার বাতাবরণের কথা বলতে গেলে—কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-দুর্নীতি, অপ্রাসঙ্গিক পাঠ্যক্রম, ghost faculty–এর আধিক্য দেখায়, মানব সম্পদ গঠনে গভীর ঘাটতি।৪র্থ শিল্পবিপ্লবের (4IR) যুগে প্রস্তুতির নামে প্রয়োজন সমন্বিত গবেষণা সুবিধা, বাজারমুখী দক্ষতা ও নৈতিক শিক্ষার সংযোজন—যা এখনও অপ্রচলিত।
প্রশ্নজাগে—এই প্রযুক্তিগত বৈপ্লবিক গতি কি বৈষম্য বাড়াচ্ছে, নাকি মানবিক দায়বদ্ধতালুপ্ত করছে? Colossus-এর মতো প্রকল্পে আমরা দক্ষতার শিখরে পৌঁছাচ্ছি; তবে সেই দক্ষতা কি কখনো ঢাকার বস্তিতে, খুলনার ফসলের মাঠে বারোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পৌঁছাবে?
প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র গতি নয়; এটি গভীরতা, দায়িত্বএবংমানবিকতার সমন্বয়েও তৈরি হতে হবে।সুপারহিউম্যান বাস্তবতার জন্য কি আমরা প্রস্তুত, নাকি সবচেয়ে আগে দরকার মানবিক মনোভাবের পুনরাবিষ্কার?
সূত্র: Nvidia’s Jensen Huang is all praises for Elon Musk’s xAI supercomputer: ‘Superhuman’ feat – Hindustan Times।