“ট্রিলিয়নিয়ার বাস্তবতা: মানবতার জন্য সতর্কবার্তা”

0

শাহাদাৎ হোসেন
কবি, চিন্তাবিদ ও আইসিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট

E-mail:hisahadan@gmail.com

Cell: +8801716 555 834

একজন মানুষের সম্পদ যদি একটি দেশের চেয়েও বেশি হয়-তবে সেটি আর শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়। এটি হয়ে ওঠে এক ধরনের ক্ষমতার সংকেত। একটি নীরব বিপ্লব, যেখানে ধন-সম্পদ রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রযুক্তি প্রতিদিন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ অনুসন্ধান, জৈবপ্রযুক্তি-সবই আমাদের ভবিষ্যতের রূপরেখা বদলে দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নহলো, এই অগ্রগতির সুফল কি সবার জন্য? নাকি এটি কেব লকিছু গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত?
ধনী দেশগুলো দ্রæত এগিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা-সবকিছুতেই অগ্রসর। আর দরিদ্র দেশগুলো রয়ে যাচ্ছে দুর্বল অবকাঠামো, দুর্নীতি, ধর্মীয় গোঁড়ামি, জলবায়ু বিপর‌্যয় আর জাতিগত বৈষম্যের ফাঁদে। এই ব্যবধান শুধু অর্থনৈতিক নয়-এটি এক ধরনের নৈতিক বৈষম্য।
যে প্রযুক্তি কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে পারত, তা আটকে আছে পেটেন্ট, একচেটিয়া ব্যবসা আর মুনাফাকেন্দ্রিক কৌশলের আড়ালে। এভাবে প্রযুক্তি হয়ে উঠছে কিছু মানুষের হাতের অস্ত্র, আর বাকি পৃথিবীর জন্য এক দূরাশা।
সম্পদের কেন্দ্রীকরণ এখন এমন পর‌্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের সম্পদ দিয়ে সেনাবাহিনী গঠন করতে পারে, উন্নত অস্ত্র কিনতে পারে, এমনকি ভূ-রাজনৈতিক সিদ্ধাšে Íপ্রভাব ফেলতে পারে।
এটি কল্পনা নয়। এটি বাস্তবতা। এবং এই বাস্তবতা আমাদের সবাইকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে-রাষ্ট্রের ভূমিকা কোথায়?
গণতন্ত্র কি এখন আর জনগণের হাতে নেই? সম্পদের এই চরম কেন্দ্রীকরণ শুধু ধনী-গরিবের ব্যবধান নয়। এটি মানবতার ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যখন সম্পদ নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তখন তা ন্যায়বিচারকে পেছনে ফেলে দেয়। তখন গণতন্ত্র আর কর্পোরেট দায়বদ্ধতা কেবল শব্দ হয়ে থাকে, বাস্তবতা নয়।
সম্প্রতি মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক বক্তব্যে বলেছেন-“কোনো সমাজ টিকে থাকতে পারেনা, যদি একজন মানুষ ট্রিলিয়নিয়ার হয়ে যায়, আর বাকিরা দিন গুজরান করে।”
এই বক্তব্যটি শুধু আমেরিকার জন্য নয়-এটি একটি বৈশ্বিক সতর্কবার্তা। এটি আমাদের সকলের জন্য এক ধরনের নৈতিক প্রশ্ন। একজন মানুষ বা একটি পরিবারের কত সম্পদ প্রয়োজন? এই প্রশ œএড়িয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়।
যদি সবচেয়ে ধনী সমাজ গুলো ও তাদের নাগরিকদের মর‌্যাদা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে যাদের সম্পদ তার এক ভগ্নাংশ, তাদের জন্য কী আশা অবশিষ্ট থাকে? আমরা চাই, ভবিষ্যতের হাতিয়ার-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ অনুসন্ধান, জৈব প্রযুক্তি-নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও সবারকল্যাণে পরিচালিত হোক।
আমরা চাই, ক্ষমতা নত হোক মানবতার সেবায়। ট্রিলিয়নিয়ার যুগ অবশ্যম্ভাবী নয়। কিন্তু যদি তা আসে, তবে তা অবশ্যই এক বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সাথে আসতে হবে- যে ক্ষমতা, যেকোনো রূপেই হোক, মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
নয়তো আমরা এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে আলো থাকবে-কিন্তু সবার জন্য নয়। এবং এই বাস্তবতা আমাদের সবাইকে প্রশ œকরতে বাধ্য করে-ক্ষমতা কি এখন আর জনগণের হাতে নেই?
সম্পদের এই কেন্দ্রীকরণ শুধু ধনী-গরিবের ব্যবধান নয়,এটি মানবতার ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সম্পদ যখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তখন ত ান্যায়বিচারকে পেছনে ফেলে দেয়। তখন গণতন্ত্র আর কর্পোরেট দায়বদ্ধতা কেবল শব্দহয়ে থাকে, বাস্তবতা নয়।
সম্পদের সাথে যদি উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে তা হয়ে ওঠে বিপদ। আমরা চাইনা, অগ্রগতির আলো কেবল অল্পকিছু মানুষের উপর পড়ুক। আমরাচাই, সেই আলো ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে।
ট্রিলিয়নিয়ার যুগ অবশ্যম্ভাবী নয়। কিন্তু যদি তা আসে, তবেতা অবশ্যই এক বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সাথে আসতে হবে- যে ক্ষমতা, যেকোনোরূপেই হোক, মানবতার সেবায় নত হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.