নিজের প্রতি সৎ থাকো, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখাই সবচেয়ে মহান ধর্ম, সততা মানবচরিত্রের শ্রেষ্ঠ একটি গুণ। মানবজীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সততা ও বিশ্বস্ততা মানুষকে উন্নত, আদর্শ ও নৈতিকতায় ভূষিত করে এবং এর মাধ্যমেই জীবন পূর্ণতা পায় l যদিও সততার চর্চাটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার, তবুও অনেক ক্ষেত্রে আমরা তা প্রকাশ করতে পারি না কারণ সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নতি ও সম্পদের সুষম বন্টনের উপরেই মূলত মানুষের সততা নির্ভর করে।
সুতরাং আজকাল মানুষ যে সৎ হয়, তার নেপথ্যের প্রধান কারন হলো – শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নতি, সামাজিক উন্নতি, আইনের শাসন ইত্যাদি l যার অভাব নেই, তার সৎ থাকাটা ততই সহজl তবে যখন কি না মানুষের জৈবিক এবং মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকে, তখন তার পক্ষে সততা মেনে চলা বহুলাংশেই দূরহl তবুও ধর্মের বিধি নিষেধ মেনে সততার প্রকাশ যে শত অভাবের মধ্যে দেখাতে পারে সে নিঃসন্দেহে সুমহান l তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার হলো সন্মান, যা সে মূলত অর্জন করে তার সততার মাধ্যমে lযদিও মিথ্যের ঝড়ো বাতাসে সত্যের নিভু নিভু প্রদীপ নিয়ে লড়াই করা যায় না,কিন্তু তারপরও সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা ! এটাই চিরন্তন সত্য! সৎ ব্যক্তি আত্নবিশ্বাসী হয়। নিজের প্রতি বিশ্বাস যত প্রবল থাকবে আপনি আপনার ক্যারিয়ারে ততই সফল হতে পারবেন। জীবনে যে কোনো কাজে সফল হতে চাইলে আপনাকে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আপনার জীবন থেকে হতাশা শব্দটি যত দ্রুত সম্ভব বাদ দিতে হবে।
সফলতার মূলমন্ত্র হতাশ শব্দটিকে ভুলে যাওয়া। কোনো কাজ করার আগে সেই বিষয় ভালো করে জানুন ও অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ গ্রহণ করুন এবং বিশ্বাস রাখুন এই কাজটি আপনি অনেক ভালোভাবে সম্পূর্ণ করতে পারবেন। নিজের ভেতর পারব না এই ভীতিটি কখনো আসতে দেবেন না। নতুন যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে যেটি আপনাকে সবচেয়ে সাহায্য করবে তা হলো বিশ্বাস। আপনারা হয়তো নিক ভুজিসিকের নাম শুনেছেন, যার দুটি হাত ও পা নেই। তার নিজের প্রতি প্রবল বিশ্বাস ছিল। সে যখন প্রথম একটি অনুষ্ঠানে কথা বলতে চাইল আয়োজকরা হেসেছিল এবং তাকে সুযোগ দেয়া হয়নি। এইভাবে বেশ কয়েক জায়গা থেকে রিফিউজ হয়। পরে যখন একটি জায়গায় সুযোগ পেল তখন সে স্টেজে ওঠার পর প্রায় সব লোকই চলে গিয়েছিল।
সে কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি। তার লক্ষ ছিল মানুষকে অনুপ্রাণিত করা। সে বিশ্বাস করত সে পারবে। আজ হয়নি তো কি হয়েছে, কাল হবে। তার আত্মবিশ্বাস ও প্রবল চেষ্টা আজ তাকে এই পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একজন মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজ তার কথা শুনতে হাজার হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে আসে। কোটি মানুষ ইউটিউবে তার ভিডিও দেখে নিজেকে অনুপ্রাণিত করে। স্টেজে কখন আসবে তার জন্য হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করে। তার আজকের সফলতার জন্য তার নিজের প্রতি বিশ্বাসটি প্রধান বস্তু ছিল। নিজেকে বিশ্বাস করতে শিখুন আপনিও সফল হবেন। আপনার ক্যারিয়ারে এমন কিছু করবেন না যা আপনাকে হতাশ করতে পারে।
প্রতিটি কাজ করার আগে মনে মনে বলুন আমি পারবই। প্রতিকূলতাকে জয় করতে আপনি নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন।