তৌহিদুল ইসলাম, মীরসরাই (চট্টগ্রাম ) থেকে : রাশি রাশি জলের উপর কুয়াশাচ্ছন্ন সারি সারি পাহাড় যেন ঘুমন্ত এক নিঝুম প্রকৃতি। কোলাহলমুক্ত নিবীড় প্রকৃতিতে পানকৌড়ি আর মাছরাঙ্গাদের নিঃশব্দ খেলা, কোথাও জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। আবার ঝর্ণার কলকল ধ্বনি । এরি মাছে মীরসরাই উপজেলার ১১ বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ লেকে নতুন সংযোজন হলো প্রকৃতি বান্ধব নিঃশব্দ উপভোগ করার অন্যতম বিকল্পহীন সুদৃশ্যময় সুশোভিত কায়াকিং নামের নৌকা। এই নৌকায় চয়ে যে কোন প্রকার অনভিজ্ঞ লোকই দাঁড় বেয়ে পাহাড়ের কোল ঘেষে উপভোগ করতে পারবে অপরুপ নানা নৈসর্গ।
সময় বদলাচ্ছে। তার সাথে বদলাচ্ছে বিনোদনের ধরন। চলতি যা কিছু আছে তার সাথে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন আরো অনেক কিছু। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বয়সের পুরুষ মহিলা দর্শনার্থিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘কায়াকিং’ নামের এই নৌ বাহন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত আর কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি হ্রদ মাতিয়ে বসার জায়গাটুকু ছাড়া উপরের পুরোটাই ঢাকা বিশেষায়িত এই ছোট নৌকা এখন নোঙ্গর ফেলেছে মিরসরাইয়ের মহামায়া হ্রদে। চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মাত্র দুইটি কায়াকিং বোট নিয়ে শুরু করা এই কায়াকিং সার্ভিসের বহরে এখন বোট সংখ্যা ৮ টি। তরুণরা যে এই একান্ত নৌ ভ্রমণের ব্যাবস্থাটিকে লুফে নিয়েছে তা দ্রুত এই বোটের সংখ্যা বৃদ্বিতেই বোঝা যায়।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে মহামায়া হ্রদে গিয়ে দেখা গেল ঢাকার একটি এ্যাডভেঞ্জার দলের ১৪ সদস্য মাত্রই হ্রদের পানিতে কায়াকিং শেষ করে বোট কিনারায় ভিড়াচ্ছেন। সবাই উৎফুল্ল। এর পরই হ্রদ ঘুরে দ্রুত বৈঠা চালিয়ে কায়াক বোট নিয়ে কুলে উঠলেন একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের দুই সহকর্মী সানোয়ার হোসেন ও শিউলি চৌধুরী চোখে মুখে তাঁদের বিশ্ব জয়ের আনন্দ। এসেছেন কুমিল্লা থেকে।
কেমন লেগেছে এই হ্রদে কায়াকিং করে, এমন প্রশ্নে দুজন প্রায় সমস্বরে বলে উঠলেন, দারুন। যেমনটি ভেবেছিলাম তার চাইতেও বেশি ভালো লেগেছে। কায়াক করার অনুভুতিটাই অন্যরকম। তার উপর মহামায়ার এমন টলটলে পানি, পাশেই পাহাড়ে পাহাড়ে সবুজের ঢল, থেকে থেকে পানকৌড়ির মাছধরার কসরত। কোথায় পাব এমন?
হ্রদের বাঁধের উপর টেবিল চেয়ার নিয়ে বসেছেন এই কায়াকিং সার্ভিস কর্তৃপক্ষের লোকজন। সেখানেই পুরো ঠিকানা দিয়ে রেজিস্টেশান করতে হয়। পানিতে নামার আগে কায়াকিং বোট চালানোর নিয়ম কানুন গুলোও শিখিয়ে দেয়া হয় এখানে। ঠিক সময়ে ফিরে আসা, লাইফ জ্যাকেট না খোলা, চালানোর সময় বেটের উপর উঠে না দাঁড়ানো, পানিতে কোন প্রকার ময়লা না ফেলা এমন কিছু নিয়ম মেনে প্রতি ঘন্টা ৩০০ টাকায় কায়াক বোট নিয়ে ঘুরা যায় হ্রদের পানিতে। ছাত্রদের জন্য পরিচয় পত্র দেখানো সাপেক্ষে আছে ৫০-১০০ টাকা ছাড় যা দলগতভাবে এলেও পাওয়াযায়।
মহামায়া হ্রদে এই কায়াকিং সার্ভিস পরিচালনার সাথে যুক্ত আছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষ করা সাইফুদ্দীন মোহাম্মদ শামীম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই হ্রদ ইজারা নেয়া পরিচিত বড় ভাইয়ের মাধ্যমে এখানে সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ থেকে কায়াকিং সার্ভিস শুরু করি। শুরুতেই বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। এই হ্রদে বড় ঢেউ না থাকায় এখানে কায়াকিং করা খুব নিরাপদ।প্রথমে ২ টি বোট দিয়ে শুরু করেছিলাম। চাহিদা বাড়ায় এখন বোট বাড়িয়ে করেছি ৮ টি। এখন সবগুলোই ২ জন করে চড়ার বোট। সামনে ৩ জন চড়ার বোটও যুক্ত করবো। সব বয়সিদের জন্য নিরাপদ হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণিরাই কায়াক করছেন বেশি। আমরা সবাইকে মহামায়া হ্রদে নিরাপদ কায়াকিংয়ের স্বাদ নিতেআমন্ত্রন জানাচ্ছি।