রাখিও নিরাপদ দেখিও আলোর পথ

0

একজন নেশাখোর নেশা করে মাতলামি করে তার প্রকৃতির সাথে। প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করে তার প্রতিটি স্বত্বাকে। পরিশেষে কলুষিত করে পরিবার, সমাজ ও তার নিজস্ব ব্যক্তিনিষ্ঠাকে, ধূলিসাৎ করে জেগে উঠা স্বপ্ন, আর ভেঙ্গে ফেলে তার সাজানো ভবিষ্যৎকে। ঠিক এমন এক পরিবেশে সরকার যখন সঠিক ও পবিত্র উদ্যোগ নিলো মাদকের বিরুদ্ধে, তখন একদল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকসেবী বা মাদক গডফাদারকে ধরে নিয়ে পত্রপত্রিকায় এসেছে বেশ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক মৃত্যুকে বন্দুক যুদ্ধ বলে চালিয়ে দিচ্ছে, এতে করে সরকারের মহান ও পবিত্র মাদক বিরোধী অভিযানকে বিতর্ক ও সমালোচনার মূখে ফেলে দিচ্ছে। কথায় আছে প্রত্যেকটি অপরাধীকে রাখিবে নিরাপদ দেখাবে আলোর পথ। কিন্তু আজ এটির সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না। অপরাধীদের মেরে ফেলা হচ্ছে, বন্দুক যুদ্ধ, ক্রসফায়ার ইত্যাদি বলে। যদি ক্রসফায়ারেই মরে তাহলে এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিসের ট্রেনিং নিয়েছে। আর যদি বন্দুক যুদ্ধ হয় তাহলে সন্ত্রাসীর হাতে এতো বন্দুক, পিস্তল বিদেশী অস্ত্র আসে কোথা থেকে? কার মাধ্যমে? সন্ত্রাসীরা বন্দুক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ কি ভাবে নেয়? বন্দুক ব্যবহারে এতো পারদর্শী কিভাবে হয়। এমন কিছু প্রশ্ন অহরহ জন্ম নেয় মানব মনে। আর যদি সত্যিই তাই হয়, তাহলে মাদক বিরোধী অভিযাত্রার প্রাক্কালে সেইসব বন্দুক যুদ্ধার হাতে অবৈধ বন্দুক আসাও নিধন করতে হবে চরম ভাবে। এবং সেইসব সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রকে অবৈধ বন্দুক হতে মুক্ত করতে হবে। আর মাদক বিরোধী অভিযান উচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত চালু রেখে প্রত্যেকটি অপরাধীকে ধরে এনে ক্রসফায়ার বা বন্ধুক যুদ্ধে না মেরে, ওদেরকে সঠিক পথ দেখানো প্রয়োজন। আর ধরে আনা বা অপরাধী ব্যক্তিদের যে তালিকা করা হয়েছে সেই প্রতিটি ব্যক্তি সত্যিই কি অপরাধী কিনা, সেটির বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছালেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ সহ, রাখিব নিরাপদ দেখাবো আলোর পথ উক্তিটির যথাযথ প্রয়োগ হবে। তাহলেই আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন আরো সুন্দর ও নিশ্চিত হবে।
সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানাই সরকারের এমন একটি মাদক বিরোধী অভিযানকে
আর ক্ষোভ প্রকাশ করছি যারা এই পবিত্র অভিযানটিকে বিভিন্ন ভাবে বিতর্কিত ও কলুষিত করছে।
এমদাদুল হক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ইংরেজি বিভাগ

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.