অনেকে বলেন এগুলো কেবল সিরিয়ার মুসলমানদের ভগ্নদশা, কিন্তু আমি বলি এগুলো সারা পৃথিবীর মুসলমানদের ভগ্নদশা। ধ্বংস্তুপের মধ্যে বসে ধর্মকর্ম করার চিত্র কোথায় নেই বলুন তো? আমাদের দেশে কি নেই? কেবল পার্থক্য হচ্ছে- সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন ইত্যাদি দেশের ইট-পাথরের ভগ্নদশা চোখে দেখা যায় বলে সবাই বিচলিত হয়, কিন্তু আমাদের মত জাতিগুলোর আদর্শিক ও নৈতিক ভগ্নদশা চর্মচক্ষুতে দেখা যায় না বলে সবাই বিচলিত হয় না। একমাত্র যারা সেটা অনুধাবন করতে পারেন তারাই বিচলিত হন, সেই সাথে আতঙ্কিতও হন। এই আতঙ্কের কারণ হচ্ছে, তারা জানেন এই নৈতিক ও আদর্শিক ভগ্নদশাই শেষে ইট-পাথরের ভগ্নদশা তৈরি করে। আমাদের মত আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি-জামাত-হেফাজত-জাসদ-বাসদের রাজনৈতিক কোন্দলই শেষে সিরিয়ার মত সরকারী সেনা ও বিদ্রোহী সেনার লড়াইতে গিয়ে ঠেকে। আজকে যে পশ্চিমারা সহযোগিতার ঝাঁপি খুলে বসে, কালকে তারাই আকাশ থেকে টনকে টন বোমা ফেলে। আজ যে ধার্মিকেরা সমাজ, জাতি ও মনুষ্যত্বের বিপদ দেখেও নির্বিকার থাকে, ডান পায়ে আস্তে করে মসজিদে ঢুকে আল্লাহর নামে দু’টো প্রশংসাবাক্য আউড়ে পুলকিত হয়, তারাই এক সময় এইভাবে খোলা আাকশের নিচে ইফতার করে। ইফতার করে আর ধ্বংস্তুপের নিচে পড়ে চ্যাপ্টা হয়ে মরে পড়ে থাকা সন্তান ও পিতা-মাতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে। আমাদের জাহাজও কিন্তু সেদিকেই ছুটে চলেছে প্রবল বেগে। সামনে হিমবাহ। আমরা কি পারব জাহাজ ঘোরাতে? জাতিকে অনিবার্য ভগ্নদশা থেকে রক্ষা করতে?
সাইফুল ইসলাম
লেখক